
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনের নিষ্পত্তির আগেই ১১ নম্বর সুয়াবিল ইউনিয়নকে সদ্যঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের উদ্যোগে শনিবার বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ডিন এবং বিজিএমই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া। তিনি বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে ১১ নম্বর সুয়াবিল ইউনিয়নকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করায় স্থানীয় জনগণ অসন্তুষ্ট।
তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত উপজেলা সদর থেকে সুয়াবিল ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার হওয়ায় জনগণের যাতায়াত ব্যয় ও সময় দুটিই বাড়বে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রিট পিটিশনের নিষ্পত্তির আগে মাঠ প্রশাসনের প্রতিবেদন ও স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সুয়াবিল ইউনিয়নকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় জনগণের আপত্তি, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং বিচারাধীন বিষয় উপেক্ষা করে বিতর্কিত প্রস্তাবটি পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফটিকছড়ি এলাকার মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়ে বক্তারা বলেন, সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্ক ফটিকছড়ি উপজেলা কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবতায় এই সংযুক্তি যৌক্তিক নয়। তাদের দাবি, বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন থেকে প্রস্তাবিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার, যেখানে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদরের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম নূরুল আলম নুরু, ঢাকা-চট্টগ্রাম ডেভেলপার্স অ্যান্ড কনসালটেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. নূরুল আলম, মো. খোরশেদ আলম, মুজাম্মেল হক, মো. আক্তার হোসেন আক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার মো. শাখাওয়াত হোসেন সবুজসহ অন্যান্যরা।