
স্বাধীনতার পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক মফিজ ইমাম মিলন।
বাসসকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ২৪ মে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সেনাবাহিনীর সম্মানজনক ‘আর্মি ক্রেস্ট’ প্রদান করেন। একই বছর তাঁর সরকারের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়, একুশে পদকে ভূষিত করা হয় এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থায়ী আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
মফিজ ইমাম মিলনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় কবির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে কাজী সব্যসাচী এবং তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে কবিকে বাংলাদেশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩০ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এর ফলে জাতীয় কবির চিরনিদ্রার স্থান বাংলাদেশেই নিশ্চিত হয় এবং দেশের মানুষ তাঁকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ধারণ করার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য, সংগীত এবং বিদ্রোহী চেতনা বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও মুক্তির সংগ্রামের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাঁর মরদেহ যদি সে সময় কলকাতায় নেওয়া হতো, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় কবিকে নিজেদের ভূখণ্ডে ধারণ করার ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো।
মফিজ ইমাম মিলন জানান, এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শামীম, যিনি তৎকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক স্টোরকিপারের ছেলে। শামীমের প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকার থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানার পর তিনি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল জীবনের সময়কাল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তিনি প্রায় চার হাজার গান, তিনটি উপন্যাস, ১৯টি ছোটগল্প এবং পাঁচটি প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
এ ছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসার পর কবির স্মৃতিবিজড়িত ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হল (টাউন হল), রাজেন্দ্র কলেজ, রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ, ঈশান ইনস্টিটিউশন, শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ি কমলাপুরের ময়েজ মঞ্জিলের বকুলতলা ও পুকুরঘাট আজও তাঁর স্মৃতি বহন করছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে আনার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক, সংবর্ধনা এবং চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান করে।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত, সংবাদপত্রের স্টাইল অনুযায়ী বা বাসসের ভাষার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে দিতে পারি।